রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

গৌরীপুরে বিশাল খন্ডের প্রচন্ড শিলাবর্ষনে সহস্রাধিক বাড়ী-ঘরের টিন ঝাঁঝড়া ।।

।। আহত দেড় শতাধিক- ৫ শ হেক্টর জমির বোর ধান মাটির নীচে।।
কমল সরকার,গৌরীপুর ।।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ২৬ এপ্রিল (শনিবার) সন্ধ্যায় ৫টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রকান্ড খন্ডের শিলা ঝড়ে ১৫ টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক কাঁচা বাড়ী-ঘরের টিন ছাউনি ঝাঝড়া করে দিয়েছে। মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে উঠতি ৫শ হেক্টর জমির বোর ধান আর দেড়শ হেক্টর জমির শাক-সবজি। এ সময় টিনের ছাউনি ভেদ করে  ঘরে পড়া প্রায় ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের প্রকান্ড শিলাখন্ডের আঘাতে হাত-পা ভেঙ্গে যাওয়াসহ মাথায় আঘাত পেয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক নারী পুরুষ। আহতদের স্থানীয় ও জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে ওইদিন সন্ধ্যায় চারদিক কালো  করে প্রবল  বৃষ্টিসহ ছোট ছোট শিলাখন্ডের সাথে সমহারে ১ কেজি থেকে ৬ কেজি ওজনের শিলাবর্ষন শুরু হয়। শিলা খন্ডের আঘাত থেকে বাঁচার জন্য এলাকাবাসী ঘরের নীচে আশ্রয় নিয়েও রেহাই পায়নি। অচিন্তপুর ইউনিয়নের গাগলা, খান্দার, পাচকাহনিয়া, পালুহাটি, সিংরাউন্দ, নাজিরপুর লংকাখোলা, লংকাকান্দি ও সহনাটি ইউনিয়নের ভালুকাপুর, দৌলতাবাদ,সহনাটি গ্রামসহ মইলাকান্দা ও সিধলা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রকান্ড এক একটা শিলাখন্ড ঘরের টিন ভেদ করে ঘরে পড়ে দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুকে আহত করেছে। আহতদের মাঝে মাওহা ইউনিয়নের তাতীর পায়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে আবুল হাশিম (৬০), আঃ খালেকের ছেলে আঃ ছালাম (৩০), মৃত ইব্রাহীমের ছেলে আরশেদ আলী (৪৫), রফিকুলের স্ত্রী লাভলী (২৫), মৃত হেকমত আলীর ছেলে আঃ রহমান (৫০), বদরুজ্জামানের স্ত্রী জুলেখা খাতুন (২৪), আবু সিদ্দিকের মেয়ে আখি (২৫), আজিজুল হক মেম্বারের স্ত্রী হেলেনা খাতুন (২৮), মাওহা ইউনিয়নের বীর আহাম্মদপুর গ্রামের এন্টাস মিয়ার স্ত্রী রওশনারা (৩৫), বাবুল মিয়ার স্ত্রী জমিলা খাতুন (৩০), হাশিম উদ্দিনের ছেলে আল আমিন (২৫), ছাদেক মিয়ার স্ত্রী বেদেনা খাতুন (৩০), আঃ মালেকের স্ত্রী নায়েবের মা (৬০), ওয়াহেদ আলী স্ত্রী ফুলবানু (৭০), দিলুয়ারা (৫০), ভূটিয়ারকোনা, বিষুমপুর, মাওহা, ঝলমলা গ্রামের আঃ হাইয়ের স্ত্রী দিলুয়ারা (৪০), বাবুলের স্ত্রী নুরজাহান (৪০), চান মিয়ার স্ত্রী জমিলা খাতুন (৫০),লাখ মিয়ার মেয়ে লামিয়া (৭),আলাল দে ছেলে হাবিবুর রহমান (৫০),আঃ হাকিমের ছেলে শেখ মোঃ বাচ্চু মিয়া (৪০),মুনসুরের ছেলে আশিকুল (৯),সৈয়দ আলীর ছেলে শেখ সাদী (৪০), বোরহান উদ্দিনের ছেলে দেলুয়ারা (২৫),আব্বাস আলীর ছেলে আজিজ (৬৫),নুর ইসলামের স্ত্রী পারুল আক্তার (৪৫),বাবর আলী স্ত্রী রাবেয়া (৫৫),বাবুলের ছেলে হুমায়ুন কবির (২৮),আব্দুল কাশেমের ছেলে হেলাল মিয়া (১৮),শাহেদ আলী (৫০) স্থানীয় হাসপাতাল, কিনিকে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তা ছাড়া প্রকান্ড শিলাখন্ডের আঘাতে আহত বীর আহাম্মদপুর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী ফুলবানু ( ৭০) কে মূমুর্ষ অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপতালে ভর্তি করা হয়েছে। 
প্রচন্ড শিলা-ঝড়ে ঘর-বাড়ীর ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও  প্রায় ৫ শ হেক্টর জমির বোর ধান ও দেড়শ হেক্টর জমির শাক-সবজীর ক্ষেত মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। রোববার সকালে সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকির  এমপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুর রে শাহওয়াজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের সাহায্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৪

গৌরীপুরের সকলের মামা এমজি রফিক আর নেই


কমল সরকার, গৌরীপুর।।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সকলের শ্রদ্ধাভাজন কমন মামা, মৃতের জানাজা থেকে শুরু করে জন্মানুষ্ঠানসহ উপজেলার সকল কালচারাল প্রোগ্রামের অগ্রসৈনিক সাবেক কৃষি কর্মকর্তা, বিশিষ্ট সমাজসেবক,সংগীত ও শিক্ষানুরাগী,নাট্যকার,অভিনেতা,সংগঠক এম জি রফিক (৮৫)  (২৫ এপ্রিল) শুক্রবার সকাল ১০টায় দাপুনিয়া খেলার মাঠ সংলগ তার নিজ বাসভবনের সামনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন (ইন্না.....রাজেউন)। মৃত্যুকালে তিনি ৫ মেয়েসহ অসংখ্য নাতি-নাতনি ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। বিপতিœক এমজি রফিক মামা ৩ বছর আগে ব্রেন ষ্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারান। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হুইল চেয়ারে চলা-ফেরা করে মেয়ের ঘরের নাতি ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক দিগন্ত বাংলা‘র উপজেলা প্রতিনিধি তৌহিদুল আমিন তুহিনের সেবা-যতনে বেঁচে ছিলেন। শুক্রবার বাদ আছর স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে মরহুমের জানাজার নামাজ শেষে তাকে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে। রফিক মামার মৃত্যুতে ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান  ফকির এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আহাম্মদ খান পাঠান সেলভি, পৌর মেয়র সৈয়দ  রফিকুল ইসলাম, সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম হবি,আ’লীগ নেতা ডাঃ হেলাল উদ্দিন, বিধু ভুষন দাস, ম, নুরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন জুয়েল, প্রেসকাব সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিন্টু, সাবেক সভাপতি কমল সরকার, সাধারন সম্পাদক এইচ এম খায়রুল বাশার, গভীর শোক প্রকাশ করে মরুহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৪

গৌরীপুরে চোরের আক্রমনে মটরবাইক মালিক মৃত্যু শয্যায়

  1. কমল সরকার,গৌরীপুর ।।
  2. মটর সাইকেল চোরের নাম প্রকাশ করায় ওই চোরের রামদায়ের উপর্যপরি কোপে এক মটর সাইকেল মালিক এখন মৃত্যুশয্যায়। ঘটনাটি ঘটেছে (২০ মার্চ) রবিবার রাত পৌনে ১২ টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পৌর শহরের কালীপুর মধ্যমতরফ এলাকায়। 
  3. আহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুর পৌর শহর সংলগ্ন  রামগোপালপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রাম থেকে সম্প্রতি পৌর শহরের কলাবাগান এলাকার মুক্তার উদ্দিনের ছেলে বাবু ওরফে চোর বাবু  শহরের কালীপুর মধ্যমতরফের মৃত ইব্রাহিমের ছেলে আবু সাঈদ সেলিম (৩০) এর একটি (এক্স সি ডি ১০০ সিসি) মটরবাইকের লক ভেঙ্গে চুরি করে নিয়ে যায়। এ খবর মুহুর্তের মাঝে শহরে ছড়িয়ে পড়লে সেলিমের লোকজন চারিদিক তল্লাশী করে বাবু’র কাছ থেকে তাৎক্ষনিকভাবে মটরসাইকেলটি উদ্ধার  করে। মটরসাইকেলটি সহজে উদ্ধার হওয়ায় মালিক সেলিম চোর বাবুর বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ না নিয়ে তাকে মৃদু শাসন করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু মালিক সেলিম মটর সাইকেল চোরের নাম প্রকাশ করায় চোর বাবু ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন রাতে  মধ্যমতরফ মোড়ে একাকী সেলিমের উপর হামলা করে রাম দা দিয়ে উপর্যপরি কুপিয়ে  তাকে গুরুত্বর আহত করে। আহত সেলিমকে প্রথমে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে মুমূর্ষ অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যপারে গৌরীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের  করা হয়েছে।

রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৪

এস আই গৌতম রায়ের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কমল সরকার,গৌরীপুর।।
পূর্বধলা প্রেসকাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক, ভোরের কাগজের সাবেক পূর্বধলা প্রতিনিধি ও ঢাকার বংশাল থানার অপারেশান অফিসার এস.আই. গৌতম রায়ের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার (১৯শে এপ্রিল) যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। ২০১০ সালের ১৯ শে এপ্রিল বংশাল থানার অপারেশান অফিসার এস আই গৌতম রায় থানার কাজ শেষ করে রাতে বাসার ফেরার সময় রাজধানীর ধোলাইখালের লাল মোহন সাহা ষ্ট্রিট এলাকায় পরিকল্পিত ভাবে  একটি  সন্ত্রাসী চক্র তাকে গুলি করে  হত্যা করে ।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলে তার নিজ বাড়ী ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জের বাসায় গীতাপাঠ ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে প্রসাদ বিতরন করা হয়। এদিকে চৌকষ পুলিশ অফিসার গৌতম রায় হত্যাকান্ডের ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন কিংবা প্রকৃত হত্যাকারীদের এখনও খুঁজে বের করতে পারেনি পুলিশ। এস.আই. গৌতম রায়ের পরিবার গত ৪ বছর যাবত হত্যাকান্ডটিকে সুপরিকল্পিত দাবী করে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৪

গৌরীপুরে বিদ্যুতের নজিরবিহীন লোডশেডিং ।। চৈত্রের তাপদাহে দুর্বিসহ জনজীবন

কমল সরকার,গৌরীপুর ।।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের কারণে চৈত্রের প্রচন্ডতাপ দাহে জনজীবন বিপর্যস্থসহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এ উপজেলার বিদ্যুৎ নির্ভর ছোট-বড় শিল্প কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া বিদ্যুতের কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে চলতি এইচ এসসি পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়া। সরকারী হিসেব মতে সারা দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকেলেও গৌরীপুরে প্রতি আধ ঘন্টা পর পর বিদ্যুত বিভ্রাটের পাশপাশি ২/৩ ঘন্টা পর পর বিদ্যুতর লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিনিয়ত ট্রান্সফরমার বিকল,তার ছিঁড়ে যাওয়াসহ নানা বাহানায় ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুত বিহীন থাকছে গৌরীপুর উপজেলা। তাছাড়া ফটোষ্ট্যাট,লেমোনিটিং, ফ্যাক্্র ও কম্পিউটার কম্পোজসহ বিদ্যুৎ নির্ভর ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ,ওযার্কসপগুলোর মালিক দিরভর বিদ্যুতের লোডশিডিংয়ের কারনে ব্যবসায় মার খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অপরিহার্য্য অংশ হচ্ছে বিদ্যুৎ। নাগরিক জীবনের দৈনন্দিন প্রতিটি কাজেই বিদ্যুতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। আর সেই বিদ্যুৎ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে। প্রতিনিয়ত ১০ থেকে ১৫ ঘন্টা লোডশেডিং জুটছে গৌরীপুরবাসীর ভাগ্যে। ময়মনসিংহ-৩, গৌরীপুর আসন থেকে ৩ বার নির্বাচিত  ডা. ক্যাপ্টেন (অব:) মজিবুর রহমান ফকির এমপি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে এলাকাবাসী সে সময়ে সন্তোসজনক বিদ্যুত সুবিধা পেয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি যেন সম্পূর্ণ উল্টো। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ আসে কিন্তু কখন যায় তা নিরুপন করা যায় না। বিদ্যুতের অভাবে ৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের তীব্র গরমে লেখা-পড়া করতে হচ্ছে মোমবাতি জ্বালিয়ে। এ ক্ষেত্রে থেমে গেছে গৌরীপুরের মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা। শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোতে গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেক ছাত্র-ছাত্রী। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ঘটনা। বাড়ছে নানান অসামাজিক কার্যকলাপ। যখন তখন বিদ্যুত না থাকার কারনে নেশাখোরদের অভয়াশ্রম হয়ে গেছে গৌরীপুরের অন্ধকার রাতের  অলি-গলি।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ থেকে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুত ছাড়াই প্রতিদিন পিক আওয়ারে কাশিগঞ্জ,শম্ভুগঞ্জ এলাকা, গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ, হালুয়াঘাট, ও ফুলপুর উপজেলায় বিদ্যুত চাহিদা রয়েছে কম পক্ষে ২০ মেগাওয়াট। পিকআওয়ার ছাড়া দিনের বেলায় বিদ্যুৎ চাহিদা হচ্ছে ১৬ মেগাওয়াট। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুতের ঘাটতি না থাকলেও ময়মনসিংহ জেলা গ্রীড থেকে উল্লেখিত ৪ উপজেলার জন্য প্রতিদিন সমহারে সর্বমোট বিদ্যুতের বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে মাত্র ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। এক্ষেত্রে  চাহিদার তুলনায় ৮/৯ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে প্রতিনিয়ত। তাছাড়া এলাকায় বরাদ্দের চেয়ে একটু বিদ্যুতের লোড বেশী হলেই লিমিটেড করা স্থাপিত সার্কিট পড়ে গিয়ে লোডশেডিং’র নামে যখন-তখন বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ হয়ে এলাকাগুলোতে চরম জনভোগান্তির সৃষ্টি করছে। এ ব্যপারে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী  বিদ্যুতের  উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় এমপি সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মজিবুর রহমান ফকিরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। 

বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৪

গৌরীপুরে প্রচারনাবিহীন জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন কর্মসূচী !

কমল সরকার,গৌরীপুর ।।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় প্রচার প্রচারনা না থাকায় ৪ দিন ব্যাপি জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন থেকে বাদ পড়া শিশুরা এবারো বাদ পড়েছে। তাদের সংখ্যা প্রায় ৫ শতাধিক।
জানা গেছে,ভিটামিন  এ প্লাস  ক্যাম্পেইন কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য সরকারী, বেসরকারী  ও বিভিন্ন সংস্থার অর্থায়নে প্রচার প্রচারনার জন্য মাইকিং, থিম সং, লিফলেট, সুধীজনদের নিয়ে সচেতনা মূলক র‌্যালী, মিটিং ওরিয়টেশনের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে উদ্ধুদ্ধ করার কথা থাকলেও গৌরীপুরে সংক্ষিপ্তভাবে দায় সারা ভাবে এ কর্মসূচী পালন করা হয়েছে । এ ক্ষেত্রে শহর কেন্দ্রিক প্রচারনা ও কার্যক্রম থাকলেও উপজেলার গ্রামীন জনপদের  অনেক শিশুর পরিবারের কাছে এ কর্মসূচীর খবর পৌছায়নি। সুত্রমতে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মচারী, সুধীজন ও গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে ব্যপক পরিসরে ওরিয়েনটেশন  করার কথা থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগের লোকদের নিয়ে লোক দেখানো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উক্ত কর্মসূচীর সমাপ্তি টানা হয়েছে। এ দিকে উপজেলার অচিন্তপুর, মাওহা, সহনাটি, সিধলা, মইলাকান্দা, ভাংনামারী, রামগোপালপুর, ডৌহাখলা ও সদর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট কর্মসুচীর আওতাধীন  শিশু পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন কর্মসূচীর কোন খবর তারা পায়নি। ফলে এবার তাদের সন্তানদের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়াতে পারেনি। নাম প্রকাশে না করার শর্তে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মী, ও স্বাস্থ্য সহকারীরা জানিয়েছেন  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়ে  ব্যপক পরিসরে ওরিয়েনটেশন করার নিয়ম থাকলেও টিএইচও ডাঃ চন্দন চক্রবর্তী রহস্যজনক কারনে তা করেননি। গৌরীপুরে একই ঘটনা ঘটেছে হাম-রোবেলা টিকা-দান কর্মসূচী উদ্ধুদ্ধ করন কর্মসূচীতে। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে উল্লেখযোগ্য কোন কর্মসূচী গৌরীপুর পালিত হয়নি। জানা গেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে  টিএইচও ডাঃ চন্দন চক্রবর্তী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে তড়িগড়ি ক’জনকে নিয়ে দায়সাড়াভাবে শুধু একটি র‌্যালী করেছেন। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন কর্মসূচীর ওরিয়েনটেশনের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দুর-রে-শাহওয়াজ বলেছেন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এর কোন ওরিয়েনটেশন হয়েছে কিনা তার জানা নেই। এ বিষয়ে টিএইচও চন্দন চক্রবর্তী সাথে কথা বললে তিনি বলেন মসজিদে মসজিদে মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচার প্রচারনা চালানো হয়েছে। বাকি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান এবং মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

গৌরীপুরে গাছ-চাপায় মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু ।। গাছ-পালা ঘর-বাড়ী ফসলের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি

কমল সরকার,গৌরীপুর।।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার উপর দিয়ে (৯ এপ্রিল) বুধবার রাতে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে  এক মাদরাসা ছাত্রের প্রানহানী ও গাছপালা, কাঁচা ঘরবাড়ী উঠতি বোর ধানের ব্যপক ক্ষতি সাধন করেছে। প্রচন্ড ঝড়ে গাছপালা উপড়ে বিদ্যুত লাইনে পড়ার কারনে উপজেলায় রাত থেকে প্রায় ১০ ঘন্টা বিদ্যুত বিছিন্ন ছিল। ঝড়ে রামগোপালপুর ইউনিয়নের তেরশিরা সাহাদত উলুম নুরানী হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্রাবাসের উপর উপড়ে পড়া বিশাল রেন্ট্রি গাছের চাপায় হাফিজিয়া কাসের ছাত্র মোঃ নাঈমের (১০) ঘটনা স্থলেই মৃত্যু হয়। তার পিতার নাম সামছুল হক। এ সময় বাহারুল ইসলাম (১২),আসাদুল কবির (১৪),রেদুয়ান (১৪),মোস্তাকিম (১২), মেহেদি হাসান (৯), রাশেল (১০)সহ ১০ ছাত্র আহত হয়। এদের মাঝে গুরুতর আহত বাহারুল ইসলামকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রচন্ড ঝড়ে উল্লেখিত ইউনিয়নের তেরশিরা বাজারের ১১টি দোকান ঘর ও  ৬০টির মত কাঁচা ঘরবাড়ী বিধ্বস্তসহ উপড়ে ও ধুমরে মুচরে ভেঙ্গে ফেলে শতাধিক ফলজ-বনজ গাছপালা। অপরদিকে একই রাতে প্রচন্ড ঝড়ে পৌরশহরসহ উপজেলার ডৌহাখলা, ভাংনামারী, সিধলা, সহনাটী, মাওহা, ২নং গৌরীপুর, অচিন্তপুর, মইলাকান্দা, বোকাইনগর ইউনিয়নের গ্রামীন  জনপদে সহস্রাধিক ফলজ-বনজ গাছপালা ও ৩ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ী বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ১ হাজার হেক্টর উঠতি বোর ধান গাছ মাটির সাথে মিশে গেছে, ক্ষতি করেছে প্রায় ৬শ হেক্টর শাকসবজির বাগান।