শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

৮ ডিসেম্বর গৌরীপুুর হানাদার মুক্ত দিবস

  1. কমল সরকার, গৌরীপুর ।।
  2. ৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের গৌরীপুুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী রাঁতের আধারে গৌরীপুর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর পুলিশ ফাঁড়ির ক‘জন পুলিশ ও রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পন করলে শত্রু মুক্ত হয় গৌরীপুর।
  3. ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পর এপ্রিলের প্রথম দিকে গৌরীপুরে শুরু হয় পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম পর্যায়ের সংগ্রাম। তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও এম সি এ মরহুম হাতেম আলীর বাস ভবনে আলোচনা শেষে গৌরীপুর মহাবিদ্যালয়ের তৎকালীন অধ্যাপক সৈয়দ আলী হাসানের তত্ত্বাবধানে কলেজ মাঠে ১৭টি রাইফেল দিয়ে শুরু হয় প্রশিন। তাদেরকে সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মমতাজ উদ্দিন ও আরো একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক। ১৯৭১ সালের ২৩ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ থেকে রেল পথে পাক হানাদার বাহিনী গৌরীপুরে প্রবেশ করেই শুরু করে হত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ। ওইদিন সকাল থেকেই পাকিস্থানী জঈী বিমান গৌরীপুরের আকাশে টহল দিয়ে থেমে থেমে আকাশ থেকে এলোপাথারী মেশিন গান দিয়ে রেল ষ্টেশন, কলেজসহ কয়েকটি স্থানে গুলি বর্ষন করছিল। হানাদার বাহিনী গৌরীপুর শহরে প্রবেশ করেই কালীপুর মোড়ে গুলি করে হত্যা করে স্কুল শিক ব্রজেন বিশ্বাসকে।  গৌরীপুরে ব্রজেন বিশ্বাস হানাদার বাহিনীর হাতে প্রথম শহীদ হলেও শহীদদের তালিকায় তার নাম উঠেনি বা শহীদ পরিবার হিসাবে তার পরিবার আজো কোন সহযোগিতা পায়নি। পাক হানাদার বাহিনী গৌরীপুর দখলের পর মুক্তিযোদ্ধারা পিছু হটে একে একে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিব বাড়ীতে আশ্রয় নেয় এবং প্রািশক্ষন নিতে শুরু করে। এদিকে গৌরীপুরে পাক হানাদার বাহিনী সাধারন মানুষের উপর চালায় নির্মম অত্যাচার। ১৬ মে সকালে পাক হানাদার বাহিনী শালীহর গ্রাম থেকে ধরে নিয়ে যায় বিশিষ্ট্য ক্রীড়া সংগঠক মধু সুদন ধরকে এবং শহর থেকে ধরে নিয়ে যায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কৃষ্ণ সাহাকে। তারা বেঁেচ আছে না মরে গেছে আজো কেউ জানতে পারেনি। আগষ্ট মাসে গৌরীপুরে অবস্থানরত পাক বাহিনীর উপর হামলা শুরু করে প্রশিন প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা। দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করতে তারা বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দেয় পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের যোগাযেগের মাধ্যম টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও রেল সেতু । অগ্নি সংযোগ করে ধ্বংস করে রেল ষ্টেশন ও পাট গুদাম। মুক্তিযোদ্ধাদের চোরাগোপ্তা হামলায় পাক বাহিনী প্তি হয়ে উঠে এবং শালীহর গ্রামে প্রবেশ করে শুরু করে গনহত্যা । সেখানে  নির্দোষ ১৩ গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যা করে এবং ধরে নিয়ে যায় মরহুম মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমের পিতা ছাবেদ হোসেনকে। পরে তার আর খোঁজ মিলেনি। মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে ৩০ নভেম্বর পলাশ কান্দায় পাকহনাদার বাহিনীর সাথে সম্মুক যুদ্ধে শহীদ হন সিরাজ, জসিম, মঞ্জু ও মতি এই চারজন মুক্তিযোদ্ধা। শ্যমগঞ্জে শহীদ হয় সুধী বড়–য়া। অবশেষে ডিসেম্বরের প্রথম দিকে গৌরীপুর শহর ছাড়া সমস্ত এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় পাক হানাদার বাহিনী ৭ ডিসেম্বর রাতে রেল যোগে গৌরীপুর থেকে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধা কোম্পানী কমান্ডার মরহুম রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আবুল কালাম আজাদ,আঃ হেকীম, মরহুম নজরুল ইসলাম, সোহরাব, ছোট ফজলূ, আনসার, কনুসহ একদল মুক্তিযোদ্ধা ৭ ডিসেম্বর গৌরীপুর থানায় অবস্থানরত পুলিশ ও রাজাকারকে আত্মসমর্পনে বাধ্য করে। ৮ ডিসেম্বর শত্রু মুক্ত হয় গৌরীপুর।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন